কে হবে ১৮ নং ওয়ার্ডের আগামীর কাউন্সিলর?

নারায়ণগঞ্জ বাণী ২৪.কম: যতই সময় যাচ্ছে সেইসাথে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সময় ঘনিয়ে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় প্রস্তুত হচ্ছে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন (নাসিক) মেয়র প্রার্থী ও বিভিন্ন ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থীরা। নাসিক নির্বাচনকে সামনে রেখে ব্যাপক প্রস্তুতিতে ব্যাস্ত ১৮ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থীগণ। নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন আওয়ামীলীগের প্রার্থী ছাড়াই প্রায় ডজন খানেক কাউন্সিলর প্রার্থী প্রস্তুত হচ্ছে বলে গণমাধ্যম জানতে পেরেছে।
তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকজনের ব্যাপারে স্থানীয় ভাবে যে তথ্য পেয়েছে নারায়ণগঞ্জ বাণী ২৪.কম প্রতিনিধি তাই তুলে ধরা হচ্ছে!
মোঃ আল আরিফ যিনি ১৮ নং ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এবং সমাধান ১৮ নামক সামাজিক সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি। আল আরিফ ৫ই আগষ্টের পর থেকেই বিভিন্ন সামাজিক কার্যক্রমের মাধ্যমে ওয়ার্ডবাসীর কাছে নিজেকে তুলে ধরার চেষ্টা করছেন। তার মাধ্যমে ওয়ার্ডে টিকা কার্যক্রম, মশক নিধন কর্মসূচি, পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা অভিযান, শিক্ষা সামগ্রী বিতরণ, নারীদের অগ্রাধিকার মূলক উল্লেখযোগ্য কার্যক্রম পরিচালিত হওয়ায় ওয়ার্ডে বেশ ভালোভাবেই আলোচনায় রয়েছেন এই প্রার্থী। তাই ভোটারদের অনেকের মতে লীগ বিহীন নির্বাচন হলে আল আরিফেই ভরসা রাখবেন ওয়ার্ডের ভোটাররা।

তোফাজ্জল হোসেন টিয়া জামায়াতে ইসলামী মনোনীত ১৮ নং ওয়ার্ডে একমাত্র কাউন্সিলর প্রার্থী। একজন বয়জোষ্ঠ শিক্ষিত ভালো মানুষ হিসেবেই যিনি সবার কাছে পরিচিত। তবে এই প্রার্থী ওয়ার্ডে কিছু ব্যানার ফেস্টুনের মাধ্যমে নিজের নির্বাচনী বার্তা দিলেও সামাজিক সেবামূলক কাজের মাধ্যমে এখনো পর্যন্ত জনগণের কাছে নিজেকে তুলে ধরতে পারেননি। তবে স্থানীয়ভাবে লোকমুখে শোনা যায় তিনি জামাতের একক প্রার্থী হওয়ায় নির্বাচনী দৌড়ে বেশ ভালোভাবেই টিকে থাকবেন।

শাহজালাল সরদার ১৮ নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি ও নবযাত্রা সমাজিক সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি। তিনি এখনো পর্যন্ত সরাসরি নির্বাচন করার ঘোষণা না দিলেও স্থানীয় ভাবে জানা গেছে এলাকার ছোট বড় সকলের কাছে দোআ চাচ্ছেন এবং মাঝে মাঝে বিভিন্ন সামাজিক কাজ করে জনগণের কাছাকাছি থাকতে চাচ্ছেন। তাই বোঝাই যাচ্ছে তিনি সময় মত নির্বাচনে প্রার্থীতা ঘোষণা দিতেও পারেন।

জাহাঙ্গীর আলম রতন নারায়ণগঞ্জ মহানগর মৎসজীবী দলের সভাপতি যিনি দীর্ঘদিন যাবৎ বিএনপির রাজনীতির সাথে জরিয়ে আছেন। জনাব রতন নিজ মুখে নির্বাচনে প্রার্থীতা ঘোষণা না দিলেও তার ঘনিষ্ঠ জনরা ফেসবুকে লেখালেখি এবং পোস্টার বানিয়ে ফেসবুক প্রচারের মাধ্যমে তাকে কাউন্সিলর হিসাবে দেখতে চাচ্ছেন। তাই বোঝাই যাচ্ছে নেতাকর্মীদের চাওয়া পাওয়ার মূল্যায়ন করতে গিয়ে তিনি নিজের প্রার্থীতা ঘোষণা দিতেও পারেন।

খলিলুর রহমান খলিল ১৮ নং ওয়ার্ড বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) এর সভাপতি। বাম সংগঠনের এই নেতা এর আগেও একাধিক বার নাসিক নির্বাচনে কাউন্সিলর প্রার্থী হয়ে খুব একটা সুবিধা করতে পারেননি। তবে লীগ বিহীন এবারের নির্বাচনী মাঠে তার পূর্ব অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ওয়ার্ড বাসীকে চমক দেখাতে চান। যার জন্য তিনি প্রায় প্রতিদিন ওয়ার্ডের বিভিন্ন এলাকা চষে বেড়াচ্ছেন এবং ওয়ার্ড বাসীর সমর্থন প্রত্যাশা করছেন। ওয়ার্ডের অনেক ভোটাররাও এবার তাকে নিয়ে বেশ আশাবাদী।

কাজী সেজান একজন তরুণ উদীয়মান রাজনীতিবিদ যিনি বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত আছেন এবং নারায়ণগঞ্জ বিএনপির আলোচিত নেতা জাকির খানের ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচিত। কাজী সেজান ২৪ সালের ৫ই আগষ্টের পর থেকেই নিজেকে ১৮ নং ওয়ার্ডে কাউন্সিলর প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা দিয়ে বিভিন্ন সামাজিক সেবামূলক কাজ করে যাচ্ছেন। চক্ষু চিকিৎসা, খাদ্য বিতরণ, বিভিন্ন সরকারি প্রোগ্রামে উপস্থিত থাকা সহ গুরুত্বপূর্ণ কাজে নিজেকে ব্যাস্ত রাখছেন। সেইসাথে তরুণ হওয়ায় তিনি সময় বয়সী ভোটারদের নজর কাড়ছেন বলে স্থানীয় ভাবে জানা গেছে।

আব্দুর রাজ্জাক টুটুল একজন সাবেক শ্রমিক দল নেতা এবং বর্তমান ওয়ার্ড বিএনপির সহ-সভাপতি পদে দায়িত্ব পালন করছেন বলে জানা গেছে। তিনিও বহু আগে থেকেই ব্যানার ফেস্টুন লাগিয়ে নিজেকে ১৮ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা দিয়েছেন। টুটুল সমাজে একজন ভালো মানুষ হিসেবেই পরিচিত, যদিও ওয়ার্ডের ভোটাররা তাকে নিয়ে উচ্ছাস্বিত নন তবুও তিনি বিভিন্ন সামাজিক সেবামূলক কাজের মাধ্যমে নিজেকে ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করছেন।

মোহাম্মদ নাজমুল হাসান গণঅধিকার পরিষদ নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখার সদ্য সাবেক কমিটির সিনি:সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। সবসময় নিজেকে সামাজিক সেবামূলক কাজের জড়িত রাখলেও তিনি এখনো পর্যন্ত নিজের প্রার্থীতা ঘোষণা দেননি। ওনি ঘোষণা না দিলেও যুবক শ্রেণির মাঝে বেশ ভালোভাবেই আলোচনায় আছেন এই তরুণ সমাজসেবক। নির্বাচনের সময় ঘনিয়ে আসলে এবং দলিয় সমর্থন পেলে প্রার্থী হতেও পারেন।

মোঃ শাকিল হোসেন নারায়ণগঞ্জ মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক ও একজন ক্রিরাপ্রেমী মানুষ। শাকিল গতবারও ২২ সালের নির্বাচনে কাউন্সিলর প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দীতা করেছেন তবে খুব একটা সুবিধা করতে পারেননি। এবার তিনি বেশ ভালোভাবেই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। বিভিন্ন সামাজিক কাজের পাশাপাশি তরুণ যুবকদের মাদকমুখি না হয়ে খেলায় মনোনিবেশ করাতে উল্লেখযোগ্য ভুমিকা রাখছেন।
তাই তাকেও ওয়ার্ডের তরুণ যুবক ভোটাররা এগিয়ে রাখছেন।

আলফু প্রধান ওয়ার্ড যুবদল নেতা হিসেবে পরিচিত।
তিনি সরাসরি প্রার্থীতা ঘোষণা না দিলেও তার ঘনিষ্ঠজনদের বরাতে জানা গেছে ওনি প্রার্থী হতে প্রস্তুত হচ্ছেন।

এছাড়াও যদি নিষিদ্ধ আওয়ামীলীগ আইনি জটিলতা কাটিয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারে তাহলে প্রার্থীর সংখ্যা যেমন বাড়বে তেমনি সাবেক কাউন্সিলরদের অংশগ্রহণ নির্বাচনকে প্রতিদ্বন্দ্বীতাপূর্ন করবে বলেই ওয়ার্ডবাসী ধারণা করছেন।
কে হবেন নাসিক ১৮ নং ওয়ার্ডের আগামীর কাউন্সিলর? আপনার মূল্যবান মতামত পাঠাতে পারেন আমাদের ফেসবুক পেইজ অথবা ইমেইল মাধ্যমে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

তনু হত্যা

অবশেষে তনু হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার

নারায়ণঞ্জ বাণী২৪.কমঃ আলোচিত তনু হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সেনাবাহিনীর সাবেক ওয়ারেন্ট অফিসার হাফিজুর রহমানকে গ্রেপ্তার করেছে পিবিআই ।